ডিজিটাল পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে পারে কেবল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।

Sunday, July 28, 2019

জয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশ

রেফুজি হিসেবে বড় হওয়াতে একটা কষ্টআছে নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট লাগে,আর সবার থেকে নিজেকে একটু গুটিয়েরাখতে ইচ্ছে করে যে ছেলেটার কথা বলবো,তার বেঁড়ে ওঠার বয়েসটা রেফুজি হয়ে জন্মএমন সময়ে যখন তার জন্মভূমি স্বাধীনতারজন্যমুক্তির জন্যআত্মসম্মান রক্ষার জন্যলড়ছে পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালীসেনাবাহিনীর সাথে সে অসম যুদ্ধ চলাকালীনএক বর্ষায় এক পুত্রশিশু জন্ম নেয়একঅবরুদ্ধ পরিবেশে গ্রেনেড আর মেশিনগানেরঝনঝনানির মধ্যে জন্মের ঠিক ১৪২তম দিনেশিশুটি নিঃশ্বাস নেয় একটি স্বাধীন দেশে,বাংলাদেশে শিশুটির নাম জয়তার নানারদেয়া নাম


পুরো কলাম পড়তে চাইলে
|নিচের লিংকে যান|
bdpolicenews24.blogspot.com/2019/07/blog-post.html

Tuesday, April 30, 2019

বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সম্মাননা পেলেন রনক হাসান


সিনিয়র রিপোর্টার ও প্রেজেন্টার রনক হাসানকে প্রয়াত বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সম্মাননা ২০১৯ প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এসময় অভিনেতা আমিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বেশ কয়েকজন গুণী মানুষকে এই সম্মান প্রদান করা হয়।

 প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, সুরকার ও গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি কবি রানা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। 

Tuesday, April 23, 2019

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব- পাল্টে যাচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনা, এমনকি রাষ্ট্র চালানোর প্রক্রিয়াও

পৃথিবী এক সময় আদিম সাম্যবাদী সমাজ ছিল। লাঙ্গল আবিষ্কার হলো, কৃষির প্রচলন ঘটল, সেখান থেকে এলো সামন্ততন্ত্র পৃথিবীকে চমক লাগানো জেমস ওয়াটের স্টিম ইঞ্জিন। বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা কস শোয়াবের মতে, এসব প্রথম শিল্প বিপ্লব।

বিদ্যুৎ, রেডিও, টেলিভিশন এসব দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব।

তারপর ডিজিটাল যুগ ও ইন্টারনেট। এটা তৃতীয় শিল্প বিপ্লব। বর্তমান সময়ের ফেসবুক, টুইটারকে অনেকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ধরলেও অর্থনীতিবিদরা এসবকে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সংস্কার বলে অভিহিত করেন।


২০২৫ সালের মধ্যে পৃথিবীতে কী কী নতুন বাস্তবতা দেখা দেবে, তার একটি তালিকা কস শোয়ায়েব দিয়েছেন। যেমন- ২০২৫ সালের মধ্যে শরীরে মোবাইল ফোন বসানো হবে। এখনকার প্রেসমেকারের মতোই অনেকটা। তাতে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে কিন্তু ক্ষতি হবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের একাধিক ডিজিটাল ঠিকানা থাকবে, তাতে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাড়বে। তেমনি বাড়বে এ সংক্রান্ত অপরাধ, থাকবে চশমার সাথে ইন্টারনেট যুক্ত, পোশাকের সাথে ইন্টারনেট যুক্ত, ‘ইন্টারনেট অব থিংস।’
 ইন্টারনেট অব থিংস’ সব জিনিসই ইন্টারনেট যুক্ত থাকবে। এমনকি গবাদিপশু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করবে।

লোকের শহরে কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল লাগবে না। সব ইন্টারনেটে যুক্ত থাকবে যেমন- চালকবিহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বা, বিটকয়েন ব্লকচেইন। বিকল্প টাকা। ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসা হবে। থ্রি-ডি প্রিন্টারের থেকে নেয়া যকৃত মানুষের শরীরে বসানো হবে। প্রথম মানব শিশু জন্ম নিবে, যার জিনোম কৃত্রিমভাবে উন্নতর করা হয়েছে। তার মানে বোঝা যাচ্ছে, আগামী সাত বছরের মধ্যে পৃথিবীর হাজারও না ঘটা সব বিষয় ঘটতে যাচ্ছে। যার মধ্যে অনেকগুলো বিষয় এখনই চলে এসেছে।

এখন প্রশ্ন হলো- এগুলো পরিবর্তন হলে আমাদের কি হবে?
সত্যি বলতে কি- এখনো আমরা পরিস্থিতিটা বুঝতে পারছি না।
আমাদের দেশে এখন আর  গরু গাড়ি চালায় না  কিন্তু মানুষ এখনো রিকশা চালায়। সে দেশে গাড়ি চলবে ড্রাইভার ছাড়া, এটা কল্পনাতীত।

পৃথিবীতে পোশাক শিল্পে যদি শ্রমিক না লাগে তাহলে সে কাজ বাংলাদেশ কেন করবে?

আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস প্রবাসী শ্রমিকদের আয়। এখন আমরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যাচ্ছি গ্যারেজ কিংবা কলকারখানায় কাজ করতে, তখন ওই কাজও তো যন্ত্র করবে।

অটোমেশন সর্বত্র হবে। নির্মাণ খাতেও হবে। মানুষ কাজ হারাবে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে- ২০২৫ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে বেকারত্ব বাড়বে, সাথে একটি বিপর্যয়ের পক্ষে যাবে। যদি আমরা এ বিষয়টি মাথায় রেখে না অগ্রসর হই। আগাম প্রস্তুতি না নেই।

পরিকল্পনাবিদদের এ নিয়ে ভাবতে হবে। এ ঝড় মোকাবেলায় কিছু প্রদক্ষেপ নিতে হবে।
- দেশের প্রতিটি নাগরিককে দক্ষ ও শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
বিজ্ঞাননির্ভর উপযোগী শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষার এ জায়গাটা নিয়ে আমাদের ছাত্রদের অনেক দুশ্চিন্তা। প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, রাজনৈতিক কারণে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্যদের নিয়োগ, ফাঁকি ও কোচিংবাণিজ্য। এসব আমাদের শিক্ষাকে ধসে দিচ্ছে। আফসোস! আমাদের শিক্ষা গবেষকেরা এ নিয়ে ভাবতে চান না। অথচ এই মুহূর্তে এগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভাবা উচিত।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঝড়ের সাথে এগিয়ে যেতে হলে, আমাদেরকে বিজ্ঞানের আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ভর হতে হবে ইন্টারনেটভিত্তিক কাজে, বেকারদেরকে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজে লাগাতে দক্ষতারও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষা খাতের উন্নয়ন করতে হবে। তরুণদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।

এরকম কিছু বিষয় দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নেতিবাচক দিক থেকে বাঁচতে পারি। পাশাপাশি বিপ্লবের পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারি ঝড়োগতিতে।

বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা কস শোয়াবের লেখা বই ‘দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন’। বা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। এ বইটি আমাদের ভাবাচ্ছে। ভাবতে বাধ্য করছে।

Sunday, March 5, 2017

ভাবনাগুলো টের পায়

••রনক হাসান••

শিরায় শিরায় আকড়ে থাকা ভালোবাসা
তীব্র, এত গভীর আর তীক্ষ্ণ যে-
ধারালো সূচের মতো বিধে যায় আত্মায়
প্রশান্তির পবিত্র পরশ। ছড়িয়ে পরে
রক্তে-মহাকাশ ছাড়িয়ে
চলতে চলতে বিশ্বআত্মার পথে বহুগুনে
আবার ফিরে ফিরে আসে
ভালোবাসা হয়ে-ই
নানারুপে। তোর উপস্থিতিতে
আনন্দ আনন্দ খেলা খেলে মন।

পাশাপাশি হাটছি, আনমনে হেলেদুলে
একসময় শেষ হয়ে আসে পথ।
কোন কথা হয় না।
কিন্তু সব কথা-ই হয়ে যায়।

স্পষ্ট টের পায় তোর ভাবনাগুলো
তোর স্পন্দন, শিরায় শিরায় জমিয়ে রাখা ভালোবাসা।

হঠাৎ হঠাৎ-
চিৎকার করে কেদে উঠি আনন্দে
নিজের ভেতর খুব গোপনে-
গৌরবের বিদ্যুত খেলে মনে
কি আনন্দে? কি আনন্দে?

তুই ও যেমন জানিস
আমিও ঠিক তাই
ভালোবাসার ভাবনাগুলো-

এমনই। এভাবেই মিলে যায়।

••প্রার্থণা করুন : সমাধান পাবেন••

আল্লাহর রাসূল (সা:) প্রায়শই দুয়া করতেন, “ইয়া আল্লাহ ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখবোধ থেকে; উদাসীনতা ও অলসতা  থেকে;  কাপুরুষতা, কৃপণতা এবং বার্ধক্যের চরম পর্যায় থেকে, এবং আরও আশ্রয় চাই কবরের আযাব হতে’ (বুখারী-মুসলিম)।

আল্লাহর রাসূল (সা:) আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে গিয়ে  দুশ্চিন্তা এবং দুঃখবোধ দুটি বিষয়কে একত্রিত করেছেন।

-দুশ্চিন্তা হচ্ছে এমন কিছুর কারণে ভীত হওয়া যা এখনো আসেনি, ভবিষ্যতে আসতে পারে।

আর দুঃখবোধ হচ্ছে অতীতে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা, যা চলে গেছে তার কারণে মন খারাপ করে থাকা, বিষণ্ণতা।

কাজেই, একজন মুসলিম তথা মানুষ, সে কখনো বিষন্ন হতে পারে না, হোক সে ঘটনা অতীতের কোন কিছু কিংবা ভবিষ্যতের।

এবং তিনি আরও একত্রিত করেছেন, উদাসীনতা ও অলসতাকে।

কারণ, উদাসীনতা হচ্ছে মানসিক অকর্মণ্যতা, আর অলসতা হচ্ছে দৈহিক অকর্মণ্যতা।

তিনি একত্রিত করেছেন, কৃপণতা ও কাপুরুষতাকে।

-কৃপণতা হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সংকীর্ণতা অনুভব করা, আর কাপুরষতা হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজের আত্মাকে বিলিয়ে দেয়ার ব্যাপারে সংকীর্ণতা অনুভব করা।••

Monday, July 18, 2016

নিষিদ্ধ জঙ্গির আড়ালে হামলা চালাচ্ছে শিবির

[১ম পর্ব]

শিবির নাকি জঙ্গি 


•রনক হাসান•

সম্প্রতি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যকর অধিকাংশ হত্যা ও নাশকতায় জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা। এই শীর্ষ দুই জঙ্গি সংগঠনকে সামনে রেখে প্রায় সব সন্ত্রাসী হামলায় কলকাঠি নাড়ছে জামায়াত-শিবির।

আশুলিয়ার ব্যাংক ডাকাতি, হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় পুলিশ হত্যা, বাড্ডায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান হত্যা, পাবনার ঈশ্বরদীতে গলা কেটে যাজক হত্যাচেষ্টা এবং সবশেষ বগুড়ায় শিয়া মসজিদে গুলি করে মুয়াজ্জিন হত্যায় সরাসরি জেএমবির দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা অংশ নেয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা।

অপরদিকে একের পর এক ব্লগার- লেখক- প্রকাশক হত্যায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সিøপার সেলের ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা জড়িত। যদিও এসব জঙ্গির অধিকাংশই বর্তমান কিংবা সাবেক শিবিরকর্মী। এই শিবিরকর্মীদের অংশগ্রহণেই ২০০৫ সালের মতো ফের ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে জেএমবি। এমনকি আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ নিয়ে ডেথ স্কোয়াড গড়ে তুলেছে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি। চাঞ্চল্যকর কয়েকটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পান গোয়েন্দারা।

যদিও এ মুহূর্তে জেএমবি বড় ধরনের কোনো নাশকতা ঘটানোর সক্ষমতা রাখে না বলে মনে করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।  তিনি বলেন, ‘হোসেনি দালানে হামলাসহ কয়েকটি ঘটনায় জেএমবির জঙ্গিরা জড়িত থাকলেও আগের মতো তাদের সাংগঠনিক শক্তি আর নেই। বিভিন্ন সময় তাদের নাশকতার পরিকল্পনা নষ্ট করে দিয়েছে পুলিশ।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমিত আকারে পরিচালিত জেএমবির কার্যক্রমের ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। এ জঙ্গিদের মদতদাতা জামায়াত ও শিবির নেতাদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।’

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেনেড হামলা চালায় আলবানি ওরফে মাহফুজ ও রাশেদ ওরফে আশিকের নেতৃত্বে জেএমবির ছয় জঙ্গি। গ্রেফতারের পর বুধবার রাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আলবানি জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান ছিলেন। এর আগের দিন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকিদাতা মাদরাসা শিক্ষক আবদুল হক ও জিহাদি জন নাম ব্যবহার করে আইএসের নামে প্রচারণা চালানো নাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আলবানি, হক ও নাহিদ এক সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

 তাদের ধারণা, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে গুলি করে মুয়াজ্জিন হত্যা এবং রংপুর ও দিনাজপুরে খ্রিস্টান চার্চের ১১ জনকে হত্যার হুমকিও একই সুতোয় গাঁথা। উভয় ঘটনায় জেএমবির জঙ্গিরা তথা শিবিরের কর্মীরা জড়িত থাকতে পারে।

এর আগে, গত মাসে গাবতলীতে পুলিশ সদস্য ইব্রাহিম মোল্লা হত্যার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার মাসুদ রানাও শিবিরের সক্রিয় কর্মী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ২০০৫ সালে একযোগে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ফের ভয়ঙ্কররূপে আবির্ভূত হচ্ছে। এক সময় র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া জেএমবিতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে জামিনে মুক্তি পাওয়া জঙ্গিরা। বর্তমান ও সাবেক অনেক শিবিরকর্মী যোগ দিচ্ছে জেএমবিতে। আইএস ও আল কায়দাসহ আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের নাম ভাঙিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে হিংস্র ও বর্বর জঙ্গিদের সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষিত জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি।

একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরের কিছু পলাতক নেতা সরকারকে বিপাকে ফেলতে এ জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত দিচ্ছে। চাঞ্চল্যকর কয়েকটি মামলার তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানান এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অধিকাংশ হত্যা ও হামলায় জেএমবি ও আনসারুল্লাহ সামনে থাকলেও মূলত নেপথ্যে রয়েছে জামায়াত।

এসব জঙ্গিকে অর্থায়ন করছেন কয়েকজন জামায়াত নেতা, ব্যবসায়ী ও জামায়াত নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। জঙ্গিবাদের মদতদাতা এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা, আশুলিয়ায় প্রকাশ্যে দুর্ধর্ষ ব্যাংক ডাকাতি ও সাতজনকে হত্যা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা, বাড্ডায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সুুফিবাদী ‘পীর’ খিজির খানকে হত্যা, পাবনার ঈশ্বরদীতে যাজক লুক সরকারকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টায় জেএমবির ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা জড়িত।

অধিকাংশ ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিল জেএমবি নেতা আলবানি ওরফে মাহফুজ। মামলাগুলোর দীর্ঘ তদন্তে ও গ্রেফতারদের স্বীকারোক্তিতে এটি পরিষ্কার হয়ে গেছে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট আকেটি সূত্র জানায়, রাজধানীর রাজাবাজারে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী ও গোপীবাগে কথিত ‘পীর’ লুৎফুর রহমানসহ সিক্স মার্ডারের ঘটনায়ও জেএমবির জঙ্গিরা জড়িত। প্রতিটি হত্যাকা-ে সামনে জেএমবি থাকলেও পেছনে কলকাঠি নেড়েছে জামায়াত-শিবির।

কিন্তু যথাযথ প্রমাণের অভাবে হোতাদের এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, ব্লগার ও প্রকাশক হত্যা তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ব্লগার ও লেখক হত্যায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটির সিøপার সেলের জঙ্গিরা জড়িত বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। লেখক ড. অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাস, নিলয় চট্টোপাধ্যায় নীল ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে ধর্মীয় মতাদর্শগত কারণে হত্যা করে একই ধর্মান্ধ উগ্রপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী। এসব হত্যায় পৃথক দল অংশ নিলেও মূল নেতৃত্ব এক বলে মনে করেন গোয়েন্দারা।

২৩ অক্টোবর রাতে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে ওই বোমা হামলায় ১১৫ জন আহত হন। ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক কিশোর এবং পাঁচ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামাল উদ্দিন নামে ৫৫ বছর বয়সী আরেকজনের মৃত্যু হয়।

৪ নভেম্বর সকালে সাভারের আশুলিয়ায় বাড়ইপাড়া তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে মুকুল হোসেন নামের এক কনস্টেবলকে হত্যা এবং আরো একজনকে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় তিনজন। এর আগে গাবতলীতে হত্যা করা হয় পুলিশ সদস্য ইব্রাহীমকে।

২১ এপ্রিল দুপুরে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া বাজার শাখায় ঢুকে বোমা মেরে, গুলি চালিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, নিরাপত্তারক্ষীসহ সাতজনকে হত্যা করে ক্যাশ থেকে টাকা লুট করে জেএমবির জঙ্গিরা।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা ও একই বছরের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে দুই বিচারককে হত্যা করে যেভাবে তারা আলোচনায় এসেছিল, এবারও আইএস নাম দিয়ে সারাদেশে নাশকতা ঘটিয়ে আলোচনায় আসার পরিকল্পনা জেএমবির। কারণ সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এখনও বহাল রয়েছে তাদের চরম নেতিবাচক সাংগঠনিক কার্যক্রম।

তবে নতুন করে জেএমবি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে বলে মনে করেন না র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান। তিনি বলেন, ‘জেএমবিসহ সব জঙ্গি সংগঠনের মেরুদ- ভেঙে দিয়েছে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জামিনে বের হয়ে কিছু জঙ্গি নতুন করে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলেও গ্রেফতার হচ্ছে।’ তবে বর্তমানে জামায়াত-শিবির জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে মনে করেন এই শীর্ষ র‌্যাব কর্মকর্তা।