ডিজিটাল পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে পারে কেবল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।

Sunday, January 31, 2016

ক্ষমতার প্রভাব কিংবা ভুল হয়েছে-এরকম অজুহাতে দায়মুক্তি দেয় দুদক!

ক্ষমতার প্রভাব কিংবা ভুল হয়েছে-এরকম অজুহাতে দায়মুক্তি দেয় দুদক!

•••অভিযোগ থেকে দায়মুক্তির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা গেছে, অনেক ঘটনায় দৃশ্যমান প্রমাণ থাকলেও দুদকের কর্মকর্তারা এর কোনো প্রমাণ পাননি।

নির্বাচন কমিশনে নিজেদের দেওয়া হলফনামায় আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও ‘ভুল হয়েছে’ অজুহাত গ্রহণ করে অনেককে দায়মুক্তি দিয়েছে দুদক।

আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেশ জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আলোচিত অনেক ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন বলে কথিত রয়েছে।

••নবম জাতীয় সংসদের হলফনামা নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শেষে হলফনামায় তথ্য দিতে ‘ভুল হয়েছে’ যুক্তি গ্রহণ করে আ ফ ম রুহুল হক ও আসলামুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় সংস্থাটি।

••সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২১৩ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে অনুসন্ধান কর্মকর্তা মামলার সুপারিশ করলেও তাকে অব্যাহতি দেয় কমিশন।

••মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বন্ধুদের সম্মাননা দেওয়ার সময় ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির অনুসন্ধানের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।

••রেলওয়ের দুর্নীতির কালো বিড়াল ধরার ঘোষণা দিলেও দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে। কিন্তু ঘুষের তথ্য ফাঁসকারী ইউসুফ আলী মৃধার গাড়িচালক মো. আলী আযম প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে না আসায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর রেলওয়ের নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে ১৩টি মামলা করে দুদক। ওই সব মামলার প্রধান আসামী ইউসুফ আলী মৃধাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ছয়টি মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

••বহুল আলোচিত হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠলেও মামলায় তাকে আসামী করেনি দুদক। দায়মুক্তি দেয় অনুসন্ধান পর্যায়েই। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকেও মামলায় আনা হয়নি।

••বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও দুদকের করা ৫৬টি মামলার একটিতেও আবদুল হাই বাচ্চু বা পর্ষদের কাউকে আসামী করা হয়নি।

••পেট্রোবাংলায় নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হলেও মামলায় তাকে আসামী করা হয়নি।

••আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে ৪০৩টি হজ্ব এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান চালায়নি দুদক। অথচ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস সৌমেন্দ্র লাল চন্দর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

তবে, সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

::সরকারদলীয়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পায় না দুদক::

গত পাঁচ বছরে দুদকের কৌশলী পদক্ষেপে সরকারি দলের দুই শতাধিক রাজনীতিবিদ ও সরকার সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

ওই সময়ে আরও কয়েক হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও অনুসন্ধান পর্যায়ে নথিভুক্ত (মামলার জন্য উপযুক্ত নয়) এবং মামলা করার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের ভাষায় ‘অভিযোগের আমলযোগ্য তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কারণে’ তারা অব্যাহতি পেয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার কয়েকবারে ৩৩৭ জনের তালিকা পাঠায় দুদকে। তাদের সবাই সরকারদলীয় নেতা কিংবা সরকার-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি।

কিন্তু দুদক আইনে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনা করে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় ভিন্ন কৌশলে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়।
# তদন্তে অভিযোগের ‘সত্যতা’ না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া
# মানবিক বিবেচনা’য় আপিল না করা
এবং
# আপিলের পর উচ্চ আদালতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজের আবেদন করা - এ তিন পদ্ধতিতে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।

কিন্তু গত ১২ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ হাজি সেলিমের দুর্নীতির মামলা শেষ মুহূর্তে না চালানোর জন্য দুদকের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।

প্রধান বিচারপতি ওই আদেশে বলেন, শুনানিকালে এভাবে খারিজের আবেদন করা বা মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে আদালত বিভ্রান্ত হন। হাজি সেলিমের এই মামলায় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন। রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৩ বছরের দণ্ড বাতিল হয়।

:::দায়মুক্তি সনদের কারখানা দুদক:::

:::দায়মুক্তি সনদের কারখানা দুদক:::

:: রনক হাসান ::

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন সমাজের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের দায়মুক্তি সনদের কারখানায় পরিণত হয়েছে । 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে একের পর এক দায়মুক্তির সনদ প্রদানের ঘটনা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে। 

সম্প্রতি তিনদিনে সংস্থাটি দেশের শীর্ষ ১৮ কর্তা ব্যক্তিকে দুর্নীতির নানা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে । স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে বিতর্ক রয়েছে। উদ্দেশ্যে থেকে এখন অনেক দূরে সরে গেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে দায়মুক্তির সনদ দেয়ার কারখানায় পরিণত করেছে বর্তমান কমিশন।

দুদক যে হারে অব্যাহতি ও দায়মুক্তির সনদ প্রদান করছে তাতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারকে পরবর্তী সময়ে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। একের পর এক দুর্নীতি থেকে অব্যাহতি দেয়ায় দুদক চেয়ারম্যান ও একজন কমিশনারের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দুদক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।