ডিজিটাল পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে পারে কেবল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।

Monday, July 18, 2016

নিষিদ্ধ জঙ্গির আড়ালে হামলা চালাচ্ছে শিবির

[১ম পর্ব]

শিবির নাকি জঙ্গি 


•রনক হাসান•

সম্প্রতি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যকর অধিকাংশ হত্যা ও নাশকতায় জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা। এই শীর্ষ দুই জঙ্গি সংগঠনকে সামনে রেখে প্রায় সব সন্ত্রাসী হামলায় কলকাঠি নাড়ছে জামায়াত-শিবির।

আশুলিয়ার ব্যাংক ডাকাতি, হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় পুলিশ হত্যা, বাড্ডায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান হত্যা, পাবনার ঈশ্বরদীতে গলা কেটে যাজক হত্যাচেষ্টা এবং সবশেষ বগুড়ায় শিয়া মসজিদে গুলি করে মুয়াজ্জিন হত্যায় সরাসরি জেএমবির দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা অংশ নেয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা।

অপরদিকে একের পর এক ব্লগার- লেখক- প্রকাশক হত্যায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সিøপার সেলের ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা জড়িত। যদিও এসব জঙ্গির অধিকাংশই বর্তমান কিংবা সাবেক শিবিরকর্মী। এই শিবিরকর্মীদের অংশগ্রহণেই ২০০৫ সালের মতো ফের ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে জেএমবি। এমনকি আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ নিয়ে ডেথ স্কোয়াড গড়ে তুলেছে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি। চাঞ্চল্যকর কয়েকটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পান গোয়েন্দারা।

যদিও এ মুহূর্তে জেএমবি বড় ধরনের কোনো নাশকতা ঘটানোর সক্ষমতা রাখে না বলে মনে করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।  তিনি বলেন, ‘হোসেনি দালানে হামলাসহ কয়েকটি ঘটনায় জেএমবির জঙ্গিরা জড়িত থাকলেও আগের মতো তাদের সাংগঠনিক শক্তি আর নেই। বিভিন্ন সময় তাদের নাশকতার পরিকল্পনা নষ্ট করে দিয়েছে পুলিশ।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমিত আকারে পরিচালিত জেএমবির কার্যক্রমের ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। এ জঙ্গিদের মদতদাতা জামায়াত ও শিবির নেতাদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।’

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেনেড হামলা চালায় আলবানি ওরফে মাহফুজ ও রাশেদ ওরফে আশিকের নেতৃত্বে জেএমবির ছয় জঙ্গি। গ্রেফতারের পর বুধবার রাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আলবানি জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান ছিলেন। এর আগের দিন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকিদাতা মাদরাসা শিক্ষক আবদুল হক ও জিহাদি জন নাম ব্যবহার করে আইএসের নামে প্রচারণা চালানো নাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আলবানি, হক ও নাহিদ এক সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

 তাদের ধারণা, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে গুলি করে মুয়াজ্জিন হত্যা এবং রংপুর ও দিনাজপুরে খ্রিস্টান চার্চের ১১ জনকে হত্যার হুমকিও একই সুতোয় গাঁথা। উভয় ঘটনায় জেএমবির জঙ্গিরা তথা শিবিরের কর্মীরা জড়িত থাকতে পারে।

এর আগে, গত মাসে গাবতলীতে পুলিশ সদস্য ইব্রাহিম মোল্লা হত্যার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার মাসুদ রানাও শিবিরের সক্রিয় কর্মী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ২০০৫ সালে একযোগে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ফের ভয়ঙ্কররূপে আবির্ভূত হচ্ছে। এক সময় র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া জেএমবিতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে জামিনে মুক্তি পাওয়া জঙ্গিরা। বর্তমান ও সাবেক অনেক শিবিরকর্মী যোগ দিচ্ছে জেএমবিতে। আইএস ও আল কায়দাসহ আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের নাম ভাঙিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে হিংস্র ও বর্বর জঙ্গিদের সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষিত জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি।

একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরের কিছু পলাতক নেতা সরকারকে বিপাকে ফেলতে এ জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত দিচ্ছে। চাঞ্চল্যকর কয়েকটি মামলার তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানান এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অধিকাংশ হত্যা ও হামলায় জেএমবি ও আনসারুল্লাহ সামনে থাকলেও মূলত নেপথ্যে রয়েছে জামায়াত।

এসব জঙ্গিকে অর্থায়ন করছেন কয়েকজন জামায়াত নেতা, ব্যবসায়ী ও জামায়াত নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। জঙ্গিবাদের মদতদাতা এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলা, আশুলিয়ায় প্রকাশ্যে দুর্ধর্ষ ব্যাংক ডাকাতি ও সাতজনকে হত্যা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা, বাড্ডায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সুুফিবাদী ‘পীর’ খিজির খানকে হত্যা, পাবনার ঈশ্বরদীতে যাজক লুক সরকারকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টায় জেএমবির ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা জড়িত।

অধিকাংশ ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিল জেএমবি নেতা আলবানি ওরফে মাহফুজ। মামলাগুলোর দীর্ঘ তদন্তে ও গ্রেফতারদের স্বীকারোক্তিতে এটি পরিষ্কার হয়ে গেছে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট আকেটি সূত্র জানায়, রাজধানীর রাজাবাজারে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী ও গোপীবাগে কথিত ‘পীর’ লুৎফুর রহমানসহ সিক্স মার্ডারের ঘটনায়ও জেএমবির জঙ্গিরা জড়িত। প্রতিটি হত্যাকা-ে সামনে জেএমবি থাকলেও পেছনে কলকাঠি নেড়েছে জামায়াত-শিবির।

কিন্তু যথাযথ প্রমাণের অভাবে হোতাদের এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, ব্লগার ও প্রকাশক হত্যা তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ব্লগার ও লেখক হত্যায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটির সিøপার সেলের জঙ্গিরা জড়িত বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। লেখক ড. অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাস, নিলয় চট্টোপাধ্যায় নীল ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে ধর্মীয় মতাদর্শগত কারণে হত্যা করে একই ধর্মান্ধ উগ্রপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী। এসব হত্যায় পৃথক দল অংশ নিলেও মূল নেতৃত্ব এক বলে মনে করেন গোয়েন্দারা।

২৩ অক্টোবর রাতে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে ওই বোমা হামলায় ১১৫ জন আহত হন। ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক কিশোর এবং পাঁচ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামাল উদ্দিন নামে ৫৫ বছর বয়সী আরেকজনের মৃত্যু হয়।

৪ নভেম্বর সকালে সাভারের আশুলিয়ায় বাড়ইপাড়া তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে মুকুল হোসেন নামের এক কনস্টেবলকে হত্যা এবং আরো একজনকে জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় তিনজন। এর আগে গাবতলীতে হত্যা করা হয় পুলিশ সদস্য ইব্রাহীমকে।

২১ এপ্রিল দুপুরে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া বাজার শাখায় ঢুকে বোমা মেরে, গুলি চালিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, নিরাপত্তারক্ষীসহ সাতজনকে হত্যা করে ক্যাশ থেকে টাকা লুট করে জেএমবির জঙ্গিরা।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা ও একই বছরের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে দুই বিচারককে হত্যা করে যেভাবে তারা আলোচনায় এসেছিল, এবারও আইএস নাম দিয়ে সারাদেশে নাশকতা ঘটিয়ে আলোচনায় আসার পরিকল্পনা জেএমবির। কারণ সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এখনও বহাল রয়েছে তাদের চরম নেতিবাচক সাংগঠনিক কার্যক্রম।

তবে নতুন করে জেএমবি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে বলে মনে করেন না র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান। তিনি বলেন, ‘জেএমবিসহ সব জঙ্গি সংগঠনের মেরুদ- ভেঙে দিয়েছে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জামিনে বের হয়ে কিছু জঙ্গি নতুন করে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলেও গ্রেফতার হচ্ছে।’ তবে বর্তমানে জামায়াত-শিবির জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে মনে করেন এই শীর্ষ র‌্যাব কর্মকর্তা।

Sunday, January 31, 2016

ক্ষমতার প্রভাব কিংবা ভুল হয়েছে-এরকম অজুহাতে দায়মুক্তি দেয় দুদক!

ক্ষমতার প্রভাব কিংবা ভুল হয়েছে-এরকম অজুহাতে দায়মুক্তি দেয় দুদক!

•••অভিযোগ থেকে দায়মুক্তির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা গেছে, অনেক ঘটনায় দৃশ্যমান প্রমাণ থাকলেও দুদকের কর্মকর্তারা এর কোনো প্রমাণ পাননি।

নির্বাচন কমিশনে নিজেদের দেওয়া হলফনামায় আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও ‘ভুল হয়েছে’ অজুহাত গ্রহণ করে অনেককে দায়মুক্তি দিয়েছে দুদক।

আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেশ জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আলোচিত অনেক ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন বলে কথিত রয়েছে।

••নবম জাতীয় সংসদের হলফনামা নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শেষে হলফনামায় তথ্য দিতে ‘ভুল হয়েছে’ যুক্তি গ্রহণ করে আ ফ ম রুহুল হক ও আসলামুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় সংস্থাটি।

••সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২১৩ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে অনুসন্ধান কর্মকর্তা মামলার সুপারিশ করলেও তাকে অব্যাহতি দেয় কমিশন।

••মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বন্ধুদের সম্মাননা দেওয়ার সময় ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির অনুসন্ধানের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।

••রেলওয়ের দুর্নীতির কালো বিড়াল ধরার ঘোষণা দিলেও দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে। কিন্তু ঘুষের তথ্য ফাঁসকারী ইউসুফ আলী মৃধার গাড়িচালক মো. আলী আযম প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে না আসায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর রেলওয়ের নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে ১৩টি মামলা করে দুদক। ওই সব মামলার প্রধান আসামী ইউসুফ আলী মৃধাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ছয়টি মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

••বহুল আলোচিত হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠলেও মামলায় তাকে আসামী করেনি দুদক। দায়মুক্তি দেয় অনুসন্ধান পর্যায়েই। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকেও মামলায় আনা হয়নি।

••বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও দুদকের করা ৫৬টি মামলার একটিতেও আবদুল হাই বাচ্চু বা পর্ষদের কাউকে আসামী করা হয়নি।

••পেট্রোবাংলায় নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হলেও মামলায় তাকে আসামী করা হয়নি।

••আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে ৪০৩টি হজ্ব এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান চালায়নি দুদক। অথচ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস সৌমেন্দ্র লাল চন্দর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

তবে, সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

::সরকারদলীয়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পায় না দুদক::

গত পাঁচ বছরে দুদকের কৌশলী পদক্ষেপে সরকারি দলের দুই শতাধিক রাজনীতিবিদ ও সরকার সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

ওই সময়ে আরও কয়েক হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও অনুসন্ধান পর্যায়ে নথিভুক্ত (মামলার জন্য উপযুক্ত নয়) এবং মামলা করার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের ভাষায় ‘অভিযোগের আমলযোগ্য তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কারণে’ তারা অব্যাহতি পেয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার কয়েকবারে ৩৩৭ জনের তালিকা পাঠায় দুদকে। তাদের সবাই সরকারদলীয় নেতা কিংবা সরকার-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি।

কিন্তু দুদক আইনে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনা করে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় ভিন্ন কৌশলে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়।
# তদন্তে অভিযোগের ‘সত্যতা’ না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া
# মানবিক বিবেচনা’য় আপিল না করা
এবং
# আপিলের পর উচ্চ আদালতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজের আবেদন করা - এ তিন পদ্ধতিতে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।

কিন্তু গত ১২ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ হাজি সেলিমের দুর্নীতির মামলা শেষ মুহূর্তে না চালানোর জন্য দুদকের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।

প্রধান বিচারপতি ওই আদেশে বলেন, শুনানিকালে এভাবে খারিজের আবেদন করা বা মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে আদালত বিভ্রান্ত হন। হাজি সেলিমের এই মামলায় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন। রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৩ বছরের দণ্ড বাতিল হয়।

:::দায়মুক্তি সনদের কারখানা দুদক:::

:::দায়মুক্তি সনদের কারখানা দুদক:::

:: রনক হাসান ::

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন সমাজের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের দায়মুক্তি সনদের কারখানায় পরিণত হয়েছে । 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে একের পর এক দায়মুক্তির সনদ প্রদানের ঘটনা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে। 

সম্প্রতি তিনদিনে সংস্থাটি দেশের শীর্ষ ১৮ কর্তা ব্যক্তিকে দুর্নীতির নানা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে । স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে বিতর্ক রয়েছে। উদ্দেশ্যে থেকে এখন অনেক দূরে সরে গেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে দায়মুক্তির সনদ দেয়ার কারখানায় পরিণত করেছে বর্তমান কমিশন।

দুদক যে হারে অব্যাহতি ও দায়মুক্তির সনদ প্রদান করছে তাতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারকে পরবর্তী সময়ে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। একের পর এক দুর্নীতি থেকে অব্যাহতি দেয়ায় দুদক চেয়ারম্যান ও একজন কমিশনারের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দুদক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।